ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণে আর কোনো বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “অবিলম্বে উচ্চ আদালতের রায় মেনে শপথ আয়োজনের ব্যবস্থা করুন। এটি আপনাদের জন্য শেষবারের মতো আহ্বান।”

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ইশরাক অভিযোগ করেন, “সরকারের কিছু উপদেষ্টা আমার ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। তাদের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। শপথ গ্রহণে বাধা দিয়ে তারা আদালতের আদেশ অমান্য করছেন।” তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি অবিলম্বে শপথের আয়োজন না করে, তাহলে আমরা আদালত অবমাননার মামলা করব।”
আন্দোলনকারীদের সংহতিতে নগর ভবনে পৌঁছালে তাঁকে ফুল ও লাল গালিচা দিয়ে বরণ করেন কর্মকর্তারা। সেসময় স্লোগান ওঠে: “নগরপিতা ইশরাক ভাইকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা”, “শপথ নিয়ে টালবাহানা চলবে না”।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট বার্তা দেনইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব না দিলে নগর ভবনের একটিও পাতা নড়বে না। কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য মোহন বলেন, “আমাদের একটাই দাবি ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব দিন। না হলে কোনো কার্যক্রম চলবে না।”
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারের সমন্বয়ক সাবেক সচিব মশিউর রহমান বলেন, “এই অন্তর্বর্তী সরকার আদালতের রায় উপেক্ষা করে নাটক শুরু করেছে। আমরা কোনো নাটকের ধার ধারি না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”
একই দাবিতে গত সপ্তাহেও যমুনা টেলিভিশনের সামনে অবস্থান নেয় আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনের সূত্রপাত ২৭ মার্চ, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ও ঢাকা প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রায়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করার পর থেকে। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন তার মেয়র হওয়া সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ এখনও পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানের কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এই বিষয়ে দায়ের করা এক রিট খারিজ করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেন, ইশরাক হোসেনকে শপথ দিতে হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
তবে আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, “আদালতের নির্দেশনা স্পষ্ট, গেজেট প্রকাশ হয়েছে, এখন আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।” বৃষ্টিতে ভিজে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ষাটোর্ধ্ব কালাম হাজীর কথায় উঠে আসে সেই ক্ষোভ “এই সরকার মশকরা শুরু করেছে, এখনই দাবি মানতে হবে, না হলে ঢাকা অচল করে দেব।”
সরকারের নির্লিপ্ত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন কেবল একটি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি নয়, এটি এখন আইনের শাসন ও রাজনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক প্রতীকী প্রতিরোধে রূপ নিচ্ছে।
