অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এমনকি এই গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তবে জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বিষয়টি সরাসরি স্বীকার না করলেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেছেন, “যেহেতু আমি এ বিষয়ে বাংলাদেশে কিছু বলিনি, তাই বিদেশে কিছু বললে তা বড় সমস্যা হয়ে যেতে পারে।”
নিক্কেই এশিয়া জানায়, সম্প্রতি খবর ছড়ায়—ড. ইউনূস এক ছাত্রনেতাকে বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার ও নির্বাচনকালীন সময়সীমা নিয়ে একমত না হয়, তবে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইউনূস সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে কৌশলী জবাব দেন।
সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের সময় দেশে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যার একটি অংশ এরই মধ্যে চিহ্নিত ও জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ভেতরে ১১ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার অবৈধ অর্থ পাওয়া গেছে এবং তা সরকারের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এই অর্থ ব্যবহার করে দুটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠন করা হবে, যা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে খরচ করা হবে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
ড. ইউনূসের এই বক্তব্য ও তার ‘পদত্যাগ’ ইঙ্গিত একে রাজনৈতিক দোদুল্যমানতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্বাচনকালীন দলগুলোর মতানৈক্য এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে, প্রধান উপদেষ্টার এই ‘চাপা সংকেত’ আগামী দিনগুলোতে বড় মোড় নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়—ড. ইউনূস আদৌ পদত্যাগপত্র জমা দেন কি না, নাকি রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সমঝোতার নতুন কৌশল নিয়ে এগিয়ে যান।
