গত বছরের জুলাই মাসে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই সময়ের মধ্যে সংঘটিত অপরাধের বিরুদ্ধে এটি প্রথম আনীত অভিযোগ, যা রবিবার (আজ) আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আজ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র জমা দেন। তিন সদস্যের এই বেঞ্চের নেতৃত্বে রয়েছেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই প্রথমবারের মতো জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বিচার শুরু হলো। আজ ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়েছে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া যাত্রা শুরু করল।”
তিনি জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের দৈর্ঘ্য ৯০ পৃষ্ঠা। ছয় মাস ১৩ দিন ধরে তদন্ত করে এটি তৈরি করেছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনে ৭৯ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, ১৯টি ভিডিওচিত্র, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও, ১১টি বই ও অন্যান্য রিপোর্ট, এবং ছয়টি মৃত্যুসনদের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই মামলায় মোট আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকার সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন এবং পুলিশ সদস্য সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
এদের মধ্যে শেষের চারজন বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং আজ তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি চারজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশন দপ্তরের তথ্যমতে, গত ২১ এপ্রিল তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগপত্র আকারে তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়।
