বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, শুধু ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণের দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব নয়। এসব সংকটের স্থায়ী সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাদ জুমা দনিয়া কলেজ প্রাঙ্গণে বিকেএম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী জোনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিবাদ, সমস্যা সমাধানের দাবি এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মামুনুল হক বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। একই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও তেলের সংকট থাকবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা কার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং দৈনন্দিন দুর্ভোগের বাস্তবসম্মত সমাধান চান।
তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে শুধু উন্নয়নের প্রচার জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের বিকল্প হতে পারে না।
জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে কোনো ধরনের ছিনিমিনি না খেলার আহ্বান জানিয়ে বিকেএম আমির বলেন, সরকারকে জনগণের সেবা করতে হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার সংকট দূর করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের ম্যান্ডেট ও গণরায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। অতীতে ভোটাধিকার উপেক্ষা করে ক্ষমতায় টিকে থাকার যে পরিণতি হয়েছে, বর্তমান সরকারকে সেখান থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, একই দিনে একই ভোটকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে তাদের মতামত জানিয়েছে। গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব। সেই রায় উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, শুধু সংবিধান সংশোধন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না; প্রয়োজন কাঠামোগত ও কার্যকর সংস্কার। জুলাই সনদের মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভারসাম্য এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারও করতে হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি। গণরায় বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে জনগণ রাজপথে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের মর্যাদা উপেক্ষা করে কোনো সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের ফিরিয়ে এনে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার নিশ্চিত করা বাংলাদেশের অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের সার্বভৌমত্ব, ন্যায়বিচার ও জনগণের প্রত্যাশার প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না বলে জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিকেএম ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মুফতি আনিসুর রহমান কাসেমী। পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাগর ও যাত্রাবাড়ী থানার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুর রশীদ।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকেএমের নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা কুরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা ওযায়ের আমীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা সানাউল্লাহ আমিনী, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রাকীবুল ইসলাম প্রমুখ।
